শীতের টাঙ্গুয়ার হাওর

 


শীতকালেই টাঙ্গুয়ার হাওর যেন তার এক অনন্য, মায়াবী রূপ ধারণ করে। ভোরের প্রথম আলো ফুটতেই পুরো হাওর ঢেকে যায় কুয়াশার মোটা চাদরে। চারপাশের পানি, গাছগাছালি, নৌকা আর দূরের পাহাড় সবই যেন হারিয়ে যায় এক রহস্যময় আবরণে। হাওরের জলরাশির ওপর নেমে আসে ঘন কুয়াশার স্তর, যা দেখলে মনে হয় কোনো সাদা স্বপ্নের রাজ্যে ভেসে বেড়াচ্ছে নৌকাগুলো।

শীতের সকালে নৌকা চড়ে যখন হাওরের বুকে এগিয়ে চলা যায়, তখন কুয়াশার ফাঁক দিয়ে সূর্যের নরম আলো ঝিকমিক করে পড়ে পানির উপর। কখনো আবার হাওরের পাখিরা দল বেঁধে উড়ে চলে, তাদের পাখার শব্দ কুয়াশার ভেতর থেকেই ভেসে আসে। শীতের টাঙ্গুয়ার হাওর বিশেষ করে পাখিপ্রেমীদের জন্য এক স্বর্গীয় আবেগের স্থান। দেশী-বিদেশী হাজারো পরিযায়ী পাখির আগমনে পুরো হাওর জীবন্ত হয়ে ওঠে। বকের সারি, রাজসরালি, পাতি সরালি, পানকৌড়ি আর নানা রঙের পাখিরা জল আর আকাশের মাঝামাঝি খেলা করে চলে।

শীতকালে টাঙ্গুয়ার হাওরের জল অনেকটা কমে আসে, ফলে বিভিন্ন জায়গায় দ্বীপের মতো ছোট ছোট চর ভেসে ওঠে। এসব চরে গরু-মহিষ চরানো দৃশ্য বা শিশুদের খেলাধুলা করা অসাধারণ সব গ্রাম্য দৃশ্যের জন্ম দেয়। আর সন্ধ্যা নামলে, কুয়াশার মধ্যে হারিয়ে যেতে যেতে দেখা মেলে লালচে সূর্যাস্তের যেন পুরো আকাশ পুড়ে লাল হয়ে উঠেছে।

শীতের টাঙ্গুয়ার হাওরে এক রাত কাটানোও এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। ঠান্ডা বাতাসের স্পর্শে নৌকায় চাদর জড়িয়ে বসে থাকা, রাতে দূরের কোনো গ্রাম থেকে ভেসে আসা ঢোলের শব্দ, আর উপরের আকাশভরা তারার মেলা এসব মুহূর্ত জীবনের স্মরণীয় অংশ হয়ে থাকে।

Comments

Popular posts from this blog

যাদুকাটা নদী – (Jadukata River)

কাগজের নৌকা – Kagojer Nouka

টাঙ্গুয়ার হাওরের অপরূপ সৌন্দর্য